বর্তমান বিশ্বের আলোড়ন জাগানো বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং।এটি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও আনন্দ নিয়ে পড়ার মত একটি বিষয় । সাবজেক্ট হিসেবে আমাদের দেশে এর প্রচলন প্রায় নেই বললেই চলে। এই সাবজেক্ট নিয়ে মানুষের মাঝে কিছু সাধারণ প্রশ্ন দেখা যায়।“এই সাবজেক্টে কি পড়ানো হয়? এই সাবজেক্টের এপ্লিকেশন কোথায়? এটি পড়ে আমরা কি ধরনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারব? আমাদের চাকুরি ক্ষেত্রটা কি রকম হবে?  উপরোক্ত প্রশ্নগুলার উত্তর জানার আগে আমাদের জানতে হবে এই সাবজেক্টের তাৎপর্য কি?

মেকাট্রনিক্স  কী?

মেকাট্রনিক্স (Mechatronics) ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি জনপ্রিয় শাখা। বাংলায় তড়িৎযন্ত্র প্রকৌশল। মেকানিক্যালের ‘মেকা’ আর ইলেকট্রনিক্সের ‘ট্রনিক্স’ – এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে মেকাট্রনিক্স শব্দটি তৈরি । মেকানিক্যাল,ইলেক্ট্রিক্যাল ও কম্পিউটার সায়েন্স – এই তিনটা সাবজেক্টের সমন্বয়ে মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টি গঠিত। মূলত যেকোনো মেকানিক্যাল ডিভাইসকে ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে কন্ট্রোল করার বিভিন্ন পদ্ধতি আর প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনাই এ বিষয়ের মূল সারবস্তু । আর এই মেকানিক্যাল ডিভাইস আর ইলেকট্রনিক্স কন্ট্রোলের মধ্যে সংযোগ সাধনের কাজটি করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং । কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ছাড়া একে স্বয়ংক্রিয় ভাবে কার্যক্ষম করে তোলা সম্ভব নয়।

অনেকেই ধারনা করেন যে, রোবট মানেই হাত–পা ওয়ালা মানুষের মত দেখতে একটা যন্ত্র । এই ধারনাটি মোটেও ঠিক নয় । বরং অটোমেটেড যেকোনো যন্ত্র যা চারপাশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সাড়া প্রদানে সক্ষম, সেটাই রোবট । আর রোবট নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে, সেটা হচ্ছে রোবটিক্স । “Mechatronics” শব্দটি 1969 সালে জাপানি সংস্থা ইয়াসকাওয়ায়ের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার টেটসুরো মরি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল

বাংলাদেশে মেকাট্রনিক্সের যাত্রা

আমাদের দেশে মেকাট্রনিক্স বিষয়টির সঙ্গে অনেকেই অপরিচিত। এর যাত্রা বাংলাদেশে কয়ের বছরের। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বিষয় পড়ার সুযোগ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন নেই। তবে প্রসার বাড়ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি মূলত এই বিষয়টি পড়ার সুযোগ দেয় প্রথম। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী প্রকৌশল প্রথম নাম লেখায় এই বিষয় চালু করার ক্ষেত্রে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেকাট্রনিক্স বিভাগ এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন বিভাগ হিসেবে মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৬ সালে রোবটিক প্রকৌশলের যুক্ত করে মেকাট্রনিক্সকে রোবটিক্স ও মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নামে সর্বশেষ ডিপার্টমেন্ট হিসেবে রাখা হয়।

যেসব বিষয় পড়ানো হয়

বিষয়টি প্র্যাক্টিক্যাল হওয়ায় পড়ার পাশাপাশি বাস্তবিক প্রয়োগ করতে হয় জ্ঞানটাকে পাকাপোক্ত রূপ দিতে। মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন, ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল ডিজাইন, নিউমেরিক্যাল মেথড, পাওয়ার প্লাট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ম্যাকানিক্স, ফিজিক্যাল, ক্যামিস্ট্রি, ইকোনমিক্স, ফান্ডামেন্টাল, ইংলিশসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ান হয় একেক ধাপে। এছাড়াও ভিডিও ক্যামেরা, এয়ারপ্লেন, বিভিন্ন আপ্লিকেশন ইলেক্ট্রনিক ও কম্পিউটার প্রোগ্রাম দিয়ে নিয়ন্ত্রিত সেগুলোও জানার ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

এই সাবজেক্টের এপ্লিকেশন কোথায়?

১ । বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র

২ । নিউক্লিয়ার রিএক্টর

৩ । গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী

৪ । বায়োমেডিক্যাল সিস্টেম ডিজাইন

৫ । স্মার্ট ভেহিকেল ডিজাইন

৬ । ন্যানো টেকনোলজি সিস্টেম

৭ । এয়ার ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম

৮ । হিউম্যানয়েড রোবটিক সিস্টেম